স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে ১২শ” প্রাথমিক বিদ্যালয়

107

যশোর প্রতিনিধি
সাড়ে ৪০০ শিক্ষার্থীর জন্য একটি মাত্র টয়লেট। সেটিও নোংরা আর স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ। নিয়মিত হয় না পরিষ্কার। সর্বক্ষণ থাকে না পানির ব্যবস্থা। সাবান তো দূরের কথা! লাইটের বাল্ব শেষ কবে লাগানো হয়েছে কেউ বলতে পারে না। দরজা লাগানো হলে টয়লেটের ভেতরে থাকে অন্ধকার। আর মেয়েদের জন্য বিশেষ কোনো ব্যবস্থা তো দূরে থাক ছেলে ও মেয়েদের একই টয়লেট করতে হচ্ছে ব্যবহার এমন চিত্র যশোর শহরের কারবালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিতে। শুধু এ বিদ্যালয়টিতে নয় এমনই চিত্র যশোর জেলার বেশিরভাগ শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের স্যানিটেশন ব্যবস্থার। শহরে হাতে গোনা দুই একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাদে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের স্যানিটেশন সুবিধা একেবারেই নাজুক। ফলে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে আছে জেলার ১২”শত প্রাথমিকের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বলে মনে করছে সংশ্রিষ্টরা।
স্যানিটেশন নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন এনজিও তথ্য মতে, জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শতকরা ৬০ ভাগ টয়লেট ব্যবহারের অনপযোগি।
জেলার কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একাধিক অভিভাবকদের সাথে কথা বললে তারা নানান অভিযোগ করে বলেন,‘স্যানিটেশন ব্যবস্থার নিজের সন্তানদের নিয়ে সবসময় দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। টয়লেটে হ্যান্ডওয়াশ তো দূরের কথা সাবান পর্যন্ত থাকে না। মাঝে মাঝে পানি থাকে না। অন্ধকার থাকে টয়লেট, থাকে মশার উপদ্রুব। টয়লেটে নোংরা-স্যাঁৎসেতে পরিবেশ, বদনা ব্যবহারের অনুপযোগী। তবে এসব বিষয় কর্তৃপক্ষ একটু নজর দিলেই দিলেই সমাধান সম্ভব হয়।
শহরের কারবালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফাতেমা নামে এক অভিভাবক বলেন, স্কুল কর্তৃপক্ষের অনীহাই মূলত টয়লেট অপরিস্কার থাকে। শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি তাদের অধিক গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিৎ।
একই বিদ্যালয়ের জোহরা খানম নামে অভিভাবক বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনের তুলনায় টয়লেট অনেক কম। সবসময় নোংরা আর অপরিষ্কার থাকে। মাঝে মাঝে পানির ব্যবস্থা থাকে না। সাবানসহ হাত ধোয়ার কোনো ব্যবস্থা থাকে না। অনেক টয়লেট কোনো রকম সচল থাকলেও থাকে না লাইট, থাকে দরজা ভাঙা। দরজার সিটকিনি ভাঙা, বদনা ভাঙা, স্যাঁতসেঁতে আর পানি জমে থাকে।
কারবালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজল বসু কিছু ত্রুটি শিকার করলেও বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এক প্রশ্নে উত্তরে তিনি বলেন, প্রতিটি শ্রেণিতে তিনজন করে ক্যাপ্টেন আছে। তারা এ সব মনিটরিং করে।
তিনি জানান,‘সাবান সহ সকল কিছু উপকরণ রাখার চেষ্টা করি। কিন্তু বাচ্চারা সাবান রাখে না। পানির ট্যাপ ভেঙ্গে ফেলে, আরো অনেক সমস্যা সৃষ্টি করে। আসলে এগুলো সামাজিক পরিবেশগত সমস্যা। এই বিষয়গুলো আমাদের কাছে দুঃখজনক বিষয়। তবে সকল মিটিংয়ে আমরা চেষ্টা করছি তাদের স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন করার। শহরের মহিলা সমাজ কল্যাণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিনা আক্তার বলেন, টয়লেটে পানির ব্যবস্থা রয়েছে, সকালে স্কুল শুরু হওয়ার আগে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা হয়। লাইটের আলোর ব্যবস্থা রয়েছে। সাবান রাখা হয়। কিন্তু বাস্তবে শিক্ষকদের বক্তব্যের অনেক ক্ষেত্রেই মিল পাওয়া যায়নি টয়লেট সরেজমিনে দেখে।
এনজিও ফোরাম ফর পাবলিক হেলথ এর যশোর আঞ্চলিক ম্যানেজার মনিরুল ইসলাম বলেন, আমরা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনামূলক সভা করি। জেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পর্যপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থা নেই। যে গুলো আছে সেগুলোতে শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের যৌথ ব্যবহারে সাস্থ্য চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সরকারের দ্রুতই জেলার সকল বিদ্যালয়ে স্যানিটেশন ব্যবস্থা শতভাগ করা উচিত।
যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা.আবুল কালাম আজাদ লিটু বলেন, এ বিষয়ে স্কুলের শিক্ষক এবং পরিবার দুই দিক দিয়েই সচেতনভাবে বাচ্চাদের দেখভাল করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের টয়লেটগুলো প্রতিদিন ভালোভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা থাকতে হবে। সাবান হ্যান্ডওয়াশ রাখা বাধ্যতামূলক। এ সকল বিষয়ে সচেতন না হলে শিক্ষার্থীরা ডায়রিয়া, কলেরা কৃমিসহ অনেক সংক্রমণ রোগে আক্রান্ত হবে শিক্ষার্থীরা।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ অহিদুল আলম বলেন সমাবেশে শিক্ষকদের এ বিষয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের জানানোর জন্য বলেছি। অভিযোগ পেলে যেখানে টয়লেট নেই,সেখানে ব্যবস্থা করার চেষ্টা করব।

SHARE

LEAVE A REPLY