শিক্ষার বাতিঘর রহমত আলী অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়

42

উৎপল দে, কেশবপুর :
যশোরের কেশবপুর উপজেলার পাঁজিয়া ইউনিয়নের মাদারডাঙ্গার রহমত আলী অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়। যে বিদ্যালয় প্রায় ৫ বছর ধরে ও প্রতিবন্ধীদের বাতিঘর হয়ে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে। প্রতিবন্ধী সন্তান নিয়ে বিপদগ্রস্থ পরিবারগুলো ভরসাস্থল হিসেবে দেখে এ স্কুলকে। ব্যতিক্রমী এ স্কুলে বর্তমানে শিক্ষার্থী সংখ্যা একশত ২৫ জন। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, তাহমিনা বেগম ও আর্জিনা নামে দুজন শিক্ষক ক্লাস নিচ্ছেন। তারা শিক্ষার্থীদের আন্তরিকতার সাথে পাঠদান করাচ্ছেন। দিন দিন প্রতিষ্ঠানটি সুনাম বয়ে এনেছে।

বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক মাহবুর আলম জানান, ২০১৪ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে শিক্ষক ও কর্মচারী মিলে রয়েছে ৩১ জন। শিক্ষার্থীদের বহনের জন্য রয়েছে ৪ টি গাড়ি । টিফিনে নাস্তা দেওয়া হয় প্রতিটা শিশুকে।কথা হয় মাদারডাঙ্গা গ্রামের প্রতিবন্ধী তানভীর ও তহিদুলের মা তানজিলা বেগমের সাথে। তিনি বলেন, আমার ছেলেটা এখানে এসে অনেক কিছু শিখেছে। আমার ছেলেদের উন্নতি হয়েছে। স্যাররা কোনো টাকা পয়সা নেন না। বেলেকাঠি গ্রামের আল আমিনের মা আকলিমা। তিনি বলেন, স্যারেরা যতœ করে শেখায় এছাড়াও টিফিনে খেতে দেয়। চিকিৎসা সেবাও দেন তারা।মরহুম রহমত আলীর ছেলে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা আব্দুস সালাম। তিনি জানান, অবহেলিত প্রতিবন্ধীদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করার প্রয়াসে আমার বাবা রহমত আলীর নামে ২১ শতক জমির উপর বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করি।

বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি আব্দুল মান্নান বলেন, এলাকায় স্কুলটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সুবিধাবঞ্চিত অবহেলিত প্রতিবন্ধীদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সাংস্কৃতিক এবং নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় শিক্ষার আলা জ্বালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিবন্ধীদের কর্মমুখী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষাদানের পাশাপাশি এখানে শিশুদের চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা নিজ উদ্যোগে ও নিজ খরচে স্কুলটি পরিচালনা করছি।

সমাজের বিত্তবান দানশীল মানুষ এবং সরকারি-বেসরকারি দাতা সংস্থার সহযোগিতা পেলে আরো ভালভাবে পরিচালিত হবে এ প্রতিষ্ঠান। তিনি আরো বলেন, প্রতিবন্ধী শিশুদের পাঠদানের জন্য আমদের প্রতিষ্ঠানে কোনো প্রজেক্টর ও ক¤িপউটার নেই। এখানকার অনেক শিক্ষার্থী চলাফেরা করতে পারে না, কথা বলতে পারে না, কিছু বোঝে না, তবু কষ্ট করে হলেও আমরা তাদেরকে শিক্ষা দিয়ে যাচ্ছি। কনো বেতন না পেয়ে ও তারা নিয়মিত পাঠদান করান। নিজ খরচে স্কুলটি পরিচালনা করতে হচ্ছে। তাই সরকারের সহযোগিতা পেলে এ প্রতিষ্ঠান আরো ভালোভাবে আলো ছড়াবে প্রতিবন্ধী শিশুদের মাঝে, হাসি ফুটবে প্রতিবন্ধী শিশুর বাবা-মার মুখে।

SHARE

LEAVE A REPLY