রাজগঞ্জে জনপ্রিয় হচ্ছে ব্রকলি চাষে

20

উত্তম চক্রবর্তী,মণিরামপুর(যশোর)৷ ব্রকলি শীতকালীন সুস্বাদু সবজি। শুধু পুষ্টিগুণ নয়, পুষ্টিবিদদের মতে ডায়াবেটিস, ক্যান্সার ও হার্টের রোগ প্রতিরোধে এবং উচ্চরক্তচাপ ও কোলেস্টরল কমাতে ব্রকলি বেশ কার্যকরী সবজি। ফুলকপির মত দেখতে হলেও এর রঙ গাঢ় সবুজ। দামও সাধারণ ফুলকপি থেকে প্রায় দ্বিগুণ। কাঁচা ও রান্না দু’ভাবেই খাওয়া যায় ব্রকলি। রোগবালাইমুক্ত, দাম বেশি, বাজারে ব্যাপক চাহিদা এবং একই মৌসুমে একই জমিতে দুইবার চাষের সুযোগ থাকায় ব্রকলি চাষ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে যশোরের রাজগঞ্জে। উপজেলার রাজগঞ্জের চালুয়াহাটী, ঝাঁপা, মশ্মিমনগর ও রোহিতা ইউনিয়নের অনেক কৃষক এখন ব্রকলি চাষ করছেন। সফলতাও পেয়েছেন তারা।
বিষমুক্ত লাভজনক সবজি উৎপাদন ও বিপণন নিয়ে কাজকরা ‘সফল’ নামে একটি বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে ২০১৬ সালে উপজেলার রোহিতা ইউনিয়নের পলাশী গ্রামে প্রথম ব্রকলির চাষ শুরু হয়। স্থানীয় প্রদীপ বিশ্বাস সহ কয়েকজন চাষিকে প্রযুক্তি জ্ঞানসহ সার্বিক সহযোগিতা দেয় প্রতিষ্ঠানটি। প্রথম বছরে সফলতা আসে প্রদীপের। এরপর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তা ছড়িয়ে পড়ে। প্রদীপের দেখাদেখি ওই গ্রামের রতন বিশ্বাস, শ্রীনিবাস, স্বপন মন্ডল, মিজানুর রহমান, আব্দুর রাজ্জাকসহ ১৬ কৃষক প্রায় নয় বিঘা জমিতে ব্রকলি চাষ করেছেন। এদের মধ্যে মিজানুর রহমান চাষ করেছেন দুই বিঘা জমিতে।
রোববার (৫ জানুয়ারি) সরেজমিন কথা হয় ব্রকলি চাষি মিজানুর রহমানের সাথে। তিনি বলেন, এইচএসসি পাশ করে বিদেশে চলে যাই। সেখানে আট বছর কাটিয়ে দেশে ফিরেই নেমে পড়ি সবজি চাষে। সম্পূর্ণ ভিন্ন রঙের হওয়ায় প্রথমদিকে ব্রকলি বাজারে তোলার পর কেউ কিনতে আগ্রহ দেখাতেন না। এমনকী দোকানিরাও এই সবজি রাখতে চাইতেন না। রোগপ্রতিরোধের ক্ষমতাসহ ব্রকলির পুষ্টিগুণের বিষয়ে ক্রেতাদের বুঝিয়ে ফেরি করে বিক্রি করতে হতো। পরেরবছর থেকে এটি আস্তে আস্তে ভোক্তাদের কাছে প্রিয় হতে থাকে। এখন বাজারে নেওয়ার সাথে সাথে বিক্রি হয়ে যায়।
তিনি বলেন, গত বছর প্রথমদিকে ৭০-৮০ টাকা করে ব্রকলির কেজি বিক্রি হয়েছে। তখন একবিঘা জমি থেকে প্রায় দেড়লাখ টাকা বিক্রি হয়েছে। এই মৌসুমে অধিক চাষ হওয়ায় শুরুতে ৬০ টাকা করে কেজি বিক্রি হয়েছে। এখন প্রতিমণ বিক্রি হচ্ছে হাজার টাকায়।
রোগবালাইমুক্ত এবং কমখরচে অধিক লাভের ফসল হওয়ায় আগামীতে চারবিঘা জমিতে ব্রকলি চাষের সিদ্ধান্ত রয়েছে বলে জানান মিজানুর রহমান।
কৃষক প্রদীপ বিশ্বাস বলেন, ব্রকলির চারা উৎপাদন করে স্থানীয় কৃষকদের সরবরাহ করি। পলাশী গ্রামের সব কৃষক ব্রকলি চাষে ভার্মি কম্পোস্ট (কেঁচো সার) ব্যবহার করেন। এই সবজিতে কোনও বিষ প্রয়োগের প্রয়োজন হয় না। এবার চাষ করেছি দশ কাঠায়।
সফল সংস্থার স্থানীয় ফিল্ড অর্গানাইজার আল-আমিন হোসেন বলেন, প্রথমদিকে সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে পলাশী গ্রামের কয়েক কৃষককে ব্রকলি চাষে উদ্বুদ্ধ করা হয়। গত বছর ৫-১০ কাঠা করে কৃষকরা ব্রকলি চাষ করেছেন। এবার পলাশী সহ আশপাশের গ্রামের ১৬ কৃষক নয় বিঘা জমিতে ব্রকলি লাগিয়েছেন।
মণিরামপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হীরক কুমার সরকার বলেন, ব্রকলি অত্যন্ত সুস্বাদু সবজি। মানুষের দেহের উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টরল কমাতে এবং বিভিন্ন রোগের প্রতিষেধক হিসেবে এই সবজি কার্যকরী। শীতমৌসুমে এক জমিতে এটি দুই বার চাষ করা যায়। সাধারণ ফুল কপি থেকে এটি দামও বেশি। গত বছর উপজেলায় ১০-১৫ বিঘা জমিতে ব্রকলি চাষ হয়। এবার রোহিতা, মশ্মিমনগর, চালুয়াহাটি ও ঝাঁপা ইউনিয়নের প্রায় ৫০ বিঘা জমিতে চাষ হয়েছে।

SHARE

LEAVE A REPLY