রাজগঞ্জে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ জেলা পরিষদের নির্দেশনা বাস্তবায়ন হয়নি

11

উত্তম চক্রবর্তী,মণিরামপুর(যশোর)

যশোরের রাজগঞ্জ বাজারে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ জেলা পরিষদের নির্দেশনা বাস্তবায়ন হয়নি। সরকারের অধিকগ্রহণকৃত প্রধান সড়কের ৬০ফুট প্রস্থের প্রধান এ সড়কের মধ্যে প্রায় ৩০ ফুট জায়গা পূর্বের মালিক ও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অবৈধভাবে দখল করে নিয়ে ভবন নির্মাণ অব্যাহত রেখেছে। এব্যাপারে এলাকাবাসি স্থানীয় জাতীয় সংসদ সদস্য ও পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রীসহ জেলা পরিষদ বরাবর একাধিকবার লিখিত অভিযোগ দিলেও সমাধান হয়নি।
জানাযায়, ২০১০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাজগঞ্জ বাজারের বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের আদেশ দেন জেলা পরিষদ।  নোটিশ পাওয়ার ৭ দিনের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা না হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু নোটিশ জারির প্রায় ৯ বছর অতিবাহিত হতে চললেও এ ব্যাপারে কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। উল্টো ক্ষমতার প্রভাবে চক্রটি তাদের কাজ আরো জোরালো করে চলেছে।
অভিযোগ রয়েছে, রাজগঞ্জ-পুলেরহাট সড়ক ও রাজগঞ্জ বাজার হয়ে ত্রিমোহনী সড়কের মোবারকপুর ব্রিজ পর্যন্ত প্রধান সড়কটি সোজা করার জন্য ১৯৬২ ও ১৯৬৩ সালে হানুয়ার ও মোবারকপুর মৌজা থেকে ৩ একর ৪৬ শতক জমি তৎকালীন সরকার যশোর জেলা বোর্ডের মাধ্যমে অধিগ্রহণ করেন। অধিগ্রহনকৃত জমির প্রস্থ ছিল ৬০ফুট। পরবর্তীতে সরকারের ক্রয়কৃত ওই জমির উপর দিয়ে প্রথমে কাঁচা ও পরে পাঁকা সড়ক নির্মিত হয়।

পাঁকা সড়ক নির্মাণের জন্য ব্যবহৃত হয় মাত্র ৩০ফুট জায়গা। আর অবশিষ্ট ৩০ ফুট জায়গা প্রধান এ সড়কের হালট হিসেবে সংরক্ষিত থাকে। এরপর ১৯৯০ সালে মাঠ জরিপের সময় পূর্বের মালিকগন জরিপ অফিসারকে মোটা অংকের টাকা ঘুষ দিয়ে সরকারের ক্রয়কৃত ওই ৬০ ফুট সম্পত্তির মধ্যে থেকে হালটের ৩০ ফুট জমি নিজেদের সীমানার মধ্যে অন্র্Íভূক্ত করেন এবং সেই মোতাবেক নিজেদের নামে রেকর্ড করে নেন।

এদিকে সরকারের ক্রয়কৃত ওই সম্পত্তি দখলদাররা তাদের অবৈধ দখল অব্যাহত রেখেছে। রাজগঞ্জ শহীদ স্মৃতি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যাপীঠ হইতে মেবারকপুর ব্রিজ পর্যন্ত প্রধান এ সড়কটি দিনদিন ছোট হওয়ায় প্রতিনিয়ত ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। সম্প্রতি রাজগঞ্জ বাজারের চৌরাস্তা মোড় পার হতে যেয়ে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে আব্দুল মাজিদ নামের এক অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী এবং সাধারণ পথচারীসহ প্রায় দেড় শতাধিক ব্যক্তি মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে। এলাকাবাসির অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা পরিষদ ২০১২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর বৃহত্তর রাজগঞ্জ বাজারের সকল অবৈধ দখলদারদের স্থাপনা সরানোর জন্য নোটিশ জারি করেন।

এ প্রসঙ্গে যশোর জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান-২ শহিদুল ইসলাম মিলন বলেন, বার বার বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগ নিলেও জেলা পরিষদের কর্মচারিদের কারণে ভেস্তে যাচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জেলা পরিষদ থেকে সকল অবৈধ স্থাপনা সরানোর জন্য একাধিকবার নোটিশ করা হয়েছে। কিন্তুু সেই নোটিশগুলো পরিষদের কর্মচারিদের অর্থনৈতিক দুর্নীতির কারণে তা আর বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং যত দ্রুত সম্ভব সরকারি সম্পত্তি থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে বলে দাবি করেন এ জনপ্রতিনিধি।

 

SHARE

LEAVE A REPLY