মণিরামপুরের মাঠে মাঠে চলছে খেজুরের রস সংগ্রহের প্রস্তুতি

27

উত্তম চক্রবর্তী,মণিরামপুর(যশোর)
মণিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জে শিশিরের সাথে শুরু হচ্ছে হালকা শীতের আমেজ। বাংলার চিরঐতিহ্য ধরে রাখতে খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহের প্রস্তুতি চলছে মাঠে মাঠে। খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে গুড় তৈরীর পালা শুরু হয়। চলে বসন্তের শেষ নাগাদ পর্যন্ত। রস সংগ্রহের প্রস্তুতির দৃশ্যটি উপজেলার মাঠে মাঠে দেখা যেতে শুরু করেছে। এবার গুড় তৈরির জন্য আবহাওয়া ভাল থাকলে তাদের মুখে ফুটে উঠবে হাসি।

উপজেলার রাজগঞ্জ এলাকার হানুয়ার গ্রামের গাছি শফিকুল ইসলাম ও আতিয়ার রহমান বলেন, আমরা ১৪/১৫ বছর যাবত খেজুর গাছ কেটে আসছি। এবার রাজগঞ্জ এলাকায় মাঠে মাঠে খেজুর গাছের সংখ্যা অনেক কম তাই খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহের প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নেমেছি সীমিত সংখ্যক গাছিরা। মাঠে মাঠে খেজুর গাছ তোলার কাজ চলছে। আগের মতো এখন আর এ কাজে ভাল লাভ হয় না। আগে এলাকার সব মাঠে ও গ্রামের আনাচে কানাচে প্রচুর পরিমান খেজুরের গাছ ছিল। খেজুর গাছ দিয়ে ইটভাঁটায় ইট পোড়ানোর ফলে প্রতি বছর খেজুর গাছ নিধন হচ্ছে। কিন্তু সেই তুলনায় খেজুর গাছ লাগানো হচ্ছে না। তাই এখন খেজুর গাছ কমে যাওয়ায় পর্যাপ্ত পরিমান রস সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না।

বর্তমানে গুড় তৈরি করতে অধিক খরচ হওয়ায় লাভের ভাগ খুব কমিই দেখা যায়। সেই জন্য অনেক গাছিই এ কাজ ছেড়ে দিয়েছে। আবার অনেকেই কাজের ফাঁকে এ কাজ করে থাকে। তাই কোনো রকমে তাদের পুষিয়ে যায়। গ্রামবাংলার সেই ঐতিহ্যবাহী খেজুর গুড়ের উৎপাদন অনেক কমে যাওয়ায় গ্রামীণ অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। খেজুরগাছ থেকে গুড় উৎপাদন একটা বাড়তি আয়ের উৎস। তাই গাছিরা অন্যান্য কাজের সাথে তাদের খেজুর গুড় তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। রস সংগ্রহের পর গুড় তৈরির বিষয় জানতে চাইলে, হানুয়ার গ্রামের অনেক গৃহবধূরা বলেন, শীতের সকালে খেজুর রস যে কতটা তৃপ্তিকর তা বলে বোঝানো যাবে না। সকাল হলেই খেজুর রস, পিঠা ও গুড়ের মৌ মৌ গন্ধে ভরে উঠবে। শীতের খেজুর রসের পিঠা-পায়েশ খুবই মজাদার। শীতের সকালে গ্রামাঞ্চলে খেজুর রস দিয়ে ক্ষীর, পায়েশসহ হরেক রকমের পিঠা তৈরির ধুম পড়ে।

প্রায় প্রতিদিনই গ্রামের কোনো না কোনো বাড়িতে খেজুর গুড়ের পিঠা তৈরি করে থাকে। শীতের সকালে গ্রামের বাড়ির উঠানের মিষ্টি রোদে বসে খেজুরের গরম গরম গুড় দিয়ে রুটি খাওয়ার মজাই আলাদা। নতুন খেজুর গুড়ের পাটালি দিয়ে নুতন ধানের মুড়ি খেতে খুবই মুখরোচক। খেজুরের নলেন গুড় ছাড়া শীতকালীন পিঠা উৎসবের কথা ভাবাই যায় না।

কৃষিবিদ ও পরিবেশবিদদের মতে শুধুমাত্র খেজুর গাছ থেকে সুমিষ্ট রস-গুড় এবং নানা প্রকার সুস্বাদু খাবার পেতে নয়। আমাদের জীবনের প্রয়োজনে পরিবেশ বাঁচাতে ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করতে আমাদের উচিত নির্বিচারে খেজুর গাছ না কেটে বেশি বেশি করে খেজুর গাছ লাগানোর জন্য সবাইকে আরো উৎসাহিত করতে হবে।

SHARE

LEAVE A REPLY